এস কে জাফর আলম টেকনাফ কক্সবাজারঃ
মেয়েকে বড়লোকের ঘরে বিয়ে দিয়ে অনেক বাবা-মা মনে করেন, এবার হয়তো মেয়ের জীবনে আর কোনো কষ্ট থাকবে না। অর্থ-সম্পদ, বড় বাড়ি আর বিলাসবহুল জীবন-সবকিছুই হয়তো মেয়েকে সুখী রাখবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন হয়। বড় বাড়ির চার দেয়ালের আড়ালেও একটি মেয়ে প্রতিদিন নীরবে কাঁদতে পারে, সহ্য করতে পারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
যে মেয়েকে বাবা-মা অনেক স্বপ্ন নিয়ে অন্যের হাতে তুলে দেন, সেই মেয়েই কখনো কখনো শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় জীবন কাটায়। পিঠে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে চোখের পানি লুকিয়ে রাখা কোনো মেয়ের জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হতে পারে না। বিয়ে মানে শুধু সামাজিক সম্পর্ক নয়, এটি একজন নারীর নিরাপত্তা, সম্মান, ভালোবাসা ও সুন্দর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।
তাই মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু ছেলের অর্থ-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি কিংবা সামাজিক অবস্থান দেখলেই চলবে না। দেখতে হবে ছেলেটির চরিত্র কেমন, আচরণ কেমন, নারীর প্রতি তার সম্মানবোধ আছে কি না এবং তার জীবনযাপন ও পেশা কতটা সৎ ও দায়িত্বশীল।
ইয়াবা ব্যবসা ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। মাদক ব্যবসা শুধু ব্যক্তি ও পরিবারকে বিপর্যস্ত করে না, সমাজেও অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই বিয়ের আগে পাত্রের পরিচয়, পেশা, স্বভাব-চরিত্র ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
একজন ভালো স্বামী হওয়া আর একজন ধনী স্বামী হওয়া এক বিষয় নয়। অর্থ-সম্পদ দিয়ে বিলাসিতা কেনা যায়, কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা, সম্মান, বিশ্বস্ততা ও নিরাপত্তা কেনা যায় না।
সকল বাবা-মায়ের প্রতি অনুরোধ-মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার আগে শুধু ঘর নয়, মানুষটিকে চিনুন। তাড়াহুড়ো করে কিংবা অর্থ-সম্পদের মোহে সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পাত্রের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করুন।
মনে রাখবেন, ভুল মানুষের হাতে মেয়েকে তুলে দিলে তার হাসি একদিন হারিয়ে যেতে পারে। আর সঠিক মানুষটি পাশে থাকলেঝ সাধারণ জীবনেও সুখী হওয়া সম্ভব।
মেয়ের বিয়েতে বড়লোক নয়, ভালো মানুষ খুঁজুন। কারণ প্রতিটি মেয়ের অধিকার রয়েছে নিরাপদ, সম্মানজনক ও নির্যাতনমুক্ত জীবন পাওয়ার।
https://www.kaabait.com