• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯
শিরোনামঃ
ফকিরহাটে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধু নারীর মরদেহ উদ্ধার এসআরবি-৫ রাজশাহীর অভিযানে ২০৬ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার পোরশায় ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে সিজার: নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল মালিক গ্রেপ্তার বাঘায় যাত্রীবেশে অটোভ্যান ছিনতাই চক্রের ১ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার বাহন! নওগাঁয় দিনব্যাপি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা সান্তাহারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্যোগে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ নন্দীগ্রামে বিএনপি নেতাদের নামে ফেক আইডিতে অপপ্রচার, রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং ও প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির হুমকি; ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের পোরশায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাই ও মাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, থানায় এজাহারের প্রস্তুতি বাঘায় ভেজাল গুড় তৈরির দায়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা, ক্ষতিকর কেমিক্যাল বিনষ্ট।

ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

Reporter Name / ২২৯ Time View
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

এম আনোয়ার হোসেনঃ

থানায় মামলা হয়েছে ঠিক এক বছর আগে। দায়েরকৃত এজাহারে সুনির্দিষ্ট ১১ জন আসামির নামসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামার উল্লেখ আছে। আছে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ। অথচ রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ ১২ মাসেও একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা পুলিশ। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আসামীদের গভীর সখ্যতা আর অনৈতিক লেনদেনের কারণে থমকে আছে বিচারের চাকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশালের বিয়ার্তা উত্তরের চরে জহির এগ্রো ফার্ম-এ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। বাদী খাদিজা খাতুনের ছেলে মোঃ খাইরুল বাশার হামীমের এই খামারে ঢুকে চারটি দোচালা ঘর ভাঙচুর, প্রায় ২০০ ফলজ ও ওষুধি গাছ নিধন এবং পুকুর থেকে মাছ লুটে নেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, খামারে থাকা প্রায় ৫০টি ছাগল (যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। বাধা দিতে গেলে খামারের মালিক হামীম, ম্যানেজার মাকসুদুল এবং লেবার মনির হোসেনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রাণভয়ে তারা পালিয়ে গেলে ৪নং আসামির হুকুমে ১নং ও ৫নং আসামি পেট্রোল ঢেলে স্টুডিও রুমে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মূল্যবান ভিডিও ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইপিএস, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশাল থানায় ১৮(০৪)২৫ নং মামলাটি রুজু করেন ওসি মনসুর আহমেদ ও তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল। কিন্তু
আজ পর্যন্ত তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, ত্রিশাল থানার বর্তমান ওসি মনসুর আহমেদ ও ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেলের সাথে আসামিদের চরম ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

বাদী খাদিজা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ সব জেনেও নীরব। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, ওসি তদন্ত আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের আড়াল করছেন। পর্যাপ্ত সাক্ষী ও প্রমাণ থাকার পরও এক বছরে একজনকেও গ্রেফতার না করা কি স্বাভাবিক? আমরা কি তবে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব? আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে দায় এড়াচ্ছে। এর ফলে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলা তুলে নিতে আসামিরা নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অতি দ্রুত এই মামলাটি পিবিআই বা উচ্চতর কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং পুলিশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই বিষয়ে জানতে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনের রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় কিংবা অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com