• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫
শিরোনামঃ
ফকিরহাটে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধু নারীর মরদেহ উদ্ধার এসআরবি-৫ রাজশাহীর অভিযানে ২০৬ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার পোরশায় ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে সিজার: নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল মালিক গ্রেপ্তার বাঘায় যাত্রীবেশে অটোভ্যান ছিনতাই চক্রের ১ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার বাহন! নওগাঁয় দিনব্যাপি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা সান্তাহারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্যোগে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ নন্দীগ্রামে বিএনপি নেতাদের নামে ফেক আইডিতে অপপ্রচার, রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং ও প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির হুমকি; ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের পোরশায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাই ও মাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, থানায় এজাহারের প্রস্তুতি বাঘায় ভেজাল গুড় তৈরির দায়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা, ক্ষতিকর কেমিক্যাল বিনষ্ট।

নারী রিকশাচালক হেলেনা বেগমের পাশে দাঁড়ালেন বরিশালের ইউএনও মোছা. ফরিদা সুলতানা।

Reporter Name / ১২১ Time View
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

মাইনুল ইসলাম বরিশালঃ বরিশাল নগরীর বাসিন্দা ও তিন কন্যার জননী অসহায় নারী রিকশাচালক হেলেনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা। বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে যাত্রী নিয়ে নগরীতে ছুটে চলা হেলেনার জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে তাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ইউএনও।

বুধবার হেলেনা বেগমকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে তার হাতে একটি রেইনকোট, একটি মোবাইল ফোন ও কিছু শুকনো খাবার তুলে দেন ইউএনও। এ সময় তিনি ওই নারী রিকশাচালককে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, গত প্রায় ২ মাস আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একটি গ্রুপ রিচার্জের জন্য সদর উপজেলায় এসেছিলেন। এসময় তাদের মাধ্যমে জানতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এক নারী রিকশা চালক রয়েছেন। তার স্বামী বহু বছর আগে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছেন। এখন তার সংসারে মাত্র তিন কন্যা সন্তানে রয়েছে। এক সন্তান লেখা পড়া করছে এবং বাকী দুই সন্তান কর্মহীন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ-পাশ এলাকায় রিকশা চালান তিনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রুপাতলী হাউজিং এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। বিষয়টি জানার ওই নারী রিকশা চালককে পেলে তার কাছে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান ওই গ্রুপের সদস্যদের।

বুধবার দুপুরে হেলেনা বেগম নামের নারী ওই রিকশা চালকের দেখা মেলায় এক শিক্ষার্থী তাকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় তার সাথে আলাপ কালে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে কোন ভাবে জীবন সংগ্রামে টিকে আছেন বলে জানতে পারেন। তিন কন্যা সন্তানকে রেখে ডিভোর্স দিয়ে স্বামীর চলে যাওয়ার পর ছোট ছোট তিন কন্যার এক মাত্র অবলম্বন হয়ে আছেন হেলেনা বেগম।

পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অন্যের কাছে হাত না পেতে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করে পরিবারের হাল ধরেছেন তিনি। বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে ছুটতে হয় তাঁকে। এমন বাস্তবতার মুখে তাকে একটি রেইন কোটর্ট ও মোবাইল ফোন দিয়ে তার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

ইউএনও বলেন, এক নারীর এমন বাস্তবতায় একটি রেইনকোট তাঁর জন্য শুধু একটি উপহার নয়, বরং প্রতিকূল আবহাওয়ায় জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার কিছুটা নিরাপত্তা। একইভাবে একটি মোবাইল ফোন ও শুকনো খাবারও তাঁর দৈনন্দিন জীবনে সামান্য হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন তিনি।

ইউএনও ফরিদা সুলতানার এমন উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com