• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫
শিরোনামঃ
ফকিরহাটে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধু নারীর মরদেহ উদ্ধার এসআরবি-৫ রাজশাহীর অভিযানে ২০৬ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার পোরশায় ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে সিজার: নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল মালিক গ্রেপ্তার বাঘায় যাত্রীবেশে অটোভ্যান ছিনতাই চক্রের ১ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার বাহন! নওগাঁয় দিনব্যাপি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা সান্তাহারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্যোগে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ নন্দীগ্রামে বিএনপি নেতাদের নামে ফেক আইডিতে অপপ্রচার, রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং ও প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির হুমকি; ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের পোরশায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাই ও মাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, থানায় এজাহারের প্রস্তুতি বাঘায় ভেজাল গুড় তৈরির দায়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা, ক্ষতিকর কেমিক্যাল বিনষ্ট।

নন্দীগ্রামে ৭টি ট্রান্সফরমার চুরিতে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি, কৃষকদের ক্ষোভ

Reporter Name / ২৭৩ Time View
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:                                      বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কৃষকদের মাঝে। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৪ জন কৃষকের মোট ৭টি সেচ ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মার্চ মাসের ১৬ তারিখে উপজেলার মাটিহাস গ্রামের কৃষক জাহিদুর রহমানের একটি ৫ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এরপর ২৪ মার্চ রাতে নাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের দুটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার এবং একই রাতে রায়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুস ছামাদের একটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। সর্বশেষ ২৫ মার্চ রাতে ভুস্কুর গ্রামের কৃষক আবুল কালামের তিনটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে গভীর নলকূপ মালিকরা এখন চোরচক্রের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ট্রান্সফরমার বা মিটার চুরির পর একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে এবং সেখানে টাকা পাঠানোর পর চুরি হওয়া মালামাল ফেরত দেওয়া হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নতুন ধরনের অপরাধ কৌশল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কৃষকরা আরও জানান, তারা বিকাশ নম্বরসহ থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে চোরচক্র ধরা পড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কায়সার রেজা বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমি নিজে থানায় গিয়ে চোরচক্রের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
এদিকে, বারবার এমন চুরির ঘটনায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় চলতি কৃষি মৌসুমে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নন্দীগ্রামে ট্রান্সফরমার চুরির এই ধারাবাহিক ঘটনা শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং পুরো কৃষি ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এখন দেখার বিষয় প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং এই চক্রের লাগাম টেনে ধরতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com